সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেফতার আতঙ্কে দুই গ্রামের অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় ইশবপুর গ্রামের দুই সহোদরকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—আব্দুল মন্নান সরকার ও তাজ মিয়া। তারা ইশবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মস্তানের ছেলে।
এদিকে আহত ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে ৪৮ ঘণ্টা পর মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মসূচি পালনের দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত—এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন—বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবারক আলী, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খায়রুল আমিন আজাদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনির মিয়া, বিএনপি নেতা আলতাবুর রহমান, লুহিতুর রহমান চৌধুরী, সাইস্থা মিয়া মেম্বার, রফিকুল আলম ইকবাল, হাজী বেলাল, কামরুল ইসলাম বাদশা, রুশন আলী ও সাইফুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য মো. রুমেল আলী, আমীর আলী, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল আহাদ, আক্তার হোসেন, তারেক আহমদ, নিজাম উদ্দিন, আংগুর আলী মেম্বার, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সজিব, ইলিয়াস আলী, নিয়াজুল হক, মহিলা দলের নেত্রী নূরুন নাহার ইয়াসমিন, সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম সাজু ও ছাত্রনেতা আফজল হোসেন প্রমুখ।