শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
হবিগঞ্জে ডেপুটি স্পিকার - ১৫-১৭ বছরের ময়লা চাইলেই সরানো সম্ভব না, সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বিজয়ী ছাতকে ১০৪ গ্রাম পুলিশের মধ্যে বাইসাইকেল, পোশাক ও সরঞ্জাম বিতরণ ধর্মপাশায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় ৫ হাজার, অবৈধ প্রেসক্রিপশনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধর্মপাশায় সরকারি মাদ্রাসা যেন ধান রাখার গোডাউন! ওসমানীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ২ দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী আকবরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি রায়হানের মায়ের শ্রীমঙ্গলে সাবানা বেগম হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
advertisement
সিলেট বিভাগ

আন্তর্জাতিক পরমাণু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল লতিফ, সুবিপ্রবির গৌরব

নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও গবেষণায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং দেশ-বিদেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল লতিফ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন দক্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সুবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রোক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে তাঁর আন্তরিকতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল লতিফ ১৯৬৭ সালে রাজবাড়ী জেলা সদরের বিনোদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে বিএসসি এবং ১৯৮৯ সালে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স থেকে ‘Applicability of various nuclear technologies in determining meteorite composition’ বিষয়ে ডক্টর অব সায়েন্স (ডি.এসসি.) ডিগ্রি অর্জন করেন।

গবেষণার ধারাবাহিকতায় তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাপানের টোকিওতে অবস্থিত ল্যাবরেটরি অব রেডিওআইসোটোপ রিসার্চ সেন্টার, গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্সে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির প্রয়োগ, পরিবেশগত তেজস্ক্রিয়তা এবং বিভিন্ন নমুনায় নিউক্লিয়ার বিশ্লেষণ।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে (বিএইসি) যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সায়েন্টিফিক অফিসার, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ও চিফ সায়েন্টিফিক অফিসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এইআরই) ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইএনএসটি) গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

শিক্ষকতা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় দায়িত্বে সৌদি আরবের কিং আব্দুলআজিজ ইউনিভার্সিটিতে (কেএইউ), জেদ্দায় নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রেডিয়েশন প্রোটেকশনে কাজ করেন। অবসরের পরও তিনি সেখানে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেন।

নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রয়োগমূলক গবেষণায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। রিঅ্যাক্টরভিত্তিক ইনস্ট্রুমেন্টাল নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস, রেডিওকেমিক্যাল নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস, প্রম্পট গামা নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস এবং রেডিওকেমিক্যাল ফোটন অ্যাক্টিভেশন অ্যানালাইসিস তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। পরিবেশগত নমুনা বিশ্লেষণ, পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ, খাদ্যে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি নির্ণয় এবং নিউক্লিয়ার ডেটা পরিমাপেও তিনি কাজ করেছেন।

শিক্ষক হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স, মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ ফিজিক্স, রেডিয়েশন প্রোটেকশন, ইলেকট্রনিক্স ও এক্সপেরিমেন্টাল টেকনিকস বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। গবেষণার পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

গবেষণা কর্মকাণ্ডের মধ্যে কৃষিজমি, সার ও বিভিন্ন ফসলে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্ণয় উল্লেখযোগ্য। সৌদি আরবের কিং আব্দুলআজিজ ইউনিভার্সিটির ডিএসআর-এর অর্থায়নে তিনি বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে মানববিহীন চন্দ্রযানের অবতরণ-গতিপথ নির্ধারণে ‘HUAPO Technique’ নামের একটি হাইব্রিড পদ্ধতি নিয়েও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল লতিফের নামে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণাপত্র ও প্রকাশনা রয়েছে। তাঁর প্রকাশনার মধ্যে ৩৯টি আন্তর্জাতিক জার্নাল পেপার, দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন পেপার, ১৬টি জাতীয় জার্নাল পেপার, ১১টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সিম্পোজিয়াম ও সভার অ্যাবস্ট্রাক্ট এবং দুটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত রিপোর্ট রয়েছে।

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি তিনবার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল লতিফের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বিকাশ ও গড়ে তোলার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রোক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তিনি ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিসরে শিক্ষকতা এবং দেশের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কারণে অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল লতিফের কর্মজীবন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও গবেষণার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি গড়ে তোলার তাঁর প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

▐ এই সম্পর্কিত আরো

হবিগঞ্জে ডেপুটি স্পিকার১৫-১৭ বছরের ময়লা চাইলেই সরানো সম্ভব না, সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বিজয়ী

ছাতকে ১০৪ গ্রাম পুলিশের মধ্যে বাইসাইকেল, পোশাক ও সরঞ্জাম বিতরণ

ধর্মপাশায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় ৫ হাজার, অবৈধ প্রেসক্রিপশনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ধর্মপাশায় সরকারি মাদ্রাসা যেন ধান রাখার গোডাউন!

ওসমানীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ২

দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

আকবরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি রায়হানের মায়ের

শ্রীমঙ্গলে সাবানা বেগম হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা