মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা ৩০০ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের জাম্বুরাছড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমানুর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জাম্বুরাছড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় লেহেন খাড়িয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরে কয়েকজন ব্যক্তি চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা শাড়ি নিয়ে অবস্থান করছে বলে জানতে পারে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়া (২৬) ও তারেক মিয়া (২৬) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো মতে পরিত্যক্ত ঘর থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১৬টি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। বান্ডিলগুলো খুলে বিভিন্ন রঙের ৩০০ পিস ভারতীয় শাড়ি পাওয়া যায়। প্রতিটি শাড়ির আনুমানিক মূল্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে জব্দকৃত শাড়ির মোট মূল্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছে, তারা নিকটবর্তী ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে পলাতক কয়েকজনের সহায়তায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে শাড়িগুলো বাংলাদেশে আনে। পরে বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে অধিক মূল্যে সেগুলো বিক্রি করা হতো।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজন ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য বাংলাদেশে এনে চোরাচালানের অভিযোগে The Special Powers Act, 1974-এর ২৫-বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।