হবিগঞ্জের বানিয়াচং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-অভিভাবক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী। সভা সঞ্চালনা করেন শ্রেণিশিক্ষক আশরাফ হোসেন।
সভায় শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১০৮ জন অংশ নিয়ে নিয়মিত উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১০২ জনের মধ্যে ২১ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৯৮ জনের মধ্যে ৮ জন, নবম শ্রেণিতে ১০৯ জনের মধ্যে ৭ জন এবং দশম শ্রেণিতে ৯৮ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জন নিয়মিত উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া প্রায় সব শ্রেণিতেই বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও গেমসে আসক্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক পরিবেশকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রাস্তাঘাটে ইভটিজিংমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুস সজিব খান বলেন, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি ছুটির কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিভাবক কাওছার আহমেদ রাসেল বলেন, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন গেমসে আসক্তির কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট। ২৫টি শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ৫ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন। শূন্য থাকা কম্পিউটার অপারেটর, নৈশপ্রহরী ও দপ্তরী পদে বেসরকারিভাবে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় শিক্ষক সংকট নিরসন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।