দীর্ঘদিন পর সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টায় হাসপাতালের নিচতলায় স্থাপিত এক্স-রে মেশিনের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জসিম উদ্দিন।
দীর্ঘদিন পর এক্স-রে সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ দেখা যায়। স্থানীয়রা সিভিল সার্জনের কাছে এ সেবা যেন নিয়মিত চালু থাকে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ মজুমদার, ডা. রাজীব বিশ্বাস, ডা. ওমর ফারুক, শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিভিল সার্জন ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি জানান, শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। তবে সম্প্রতি আরও দুইজন চিকিৎসকের পদায়ন হয়েছে। এর মধ্যে একজন যোগদান করেছেন এবং অপরজন যোগদান করবেন না বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের জন্য একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, “দীর্ঘদিন পর আজ আমরা এক্স-রে মেশিন চালু করতে পেরেছি। আজ থেকে এটি নিয়মিত চালু থাকবে। এছাড়া হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনও রয়েছে। নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবা চালুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ল্যাবরেটরি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
স্থানীয়দের আশা, এক্স-রে সেবা চালুর মাধ্যমে উপজেলার রোগীরা এখন অনেকটাই ভোগান্তিমুক্ত হবেন এবং চিকিৎসার জন্য জেলা সদর বা অন্যত্র ছুটে যেতে হবে না।