সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ জমির বোরো ধান পেকে গেলেও পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিবৃষ্টিতে কৃষকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে হাজার হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, অনেক কৃষকের খলা (ধান শুকানোর স্থান) কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ধান মাড়াই ও শুকানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে নেট জাল ব্যবহার শুরু করায় স্থানীয় দর্জিদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের মধ্য গলিতে থাকা দর্জিরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নেট জাল তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ বাড়তি আয়ের আশায় রাত অবধি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাচনা বাজার ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের নেট জাল তৈরি করে নিচ্ছেন।
সাচনা বাজারে নেট জাল তৈরি করতে আসা কৃষক মো. আবুল হোসেন জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে জলাবদ্ধতায় ৩ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। অবশিষ্ট ৪ বিঘার ধান কাটতে পারলেও খলা কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি নেট জাল ব্যবহার করছেন। এতে ধান দ্রুত শুকানোর পাশাপাশি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় দর্জি আঙ্গুর মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে অতিবৃষ্টি ও হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা নেট জাল তৈরির জন্য ভিড় করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। কাজের চাপ এত বেশি যে অন্য কোনো কাজ করার সুযোগ মিলছে না। তবে এতে আগের তুলনায় আয়ও বেড়েছে।
আরেক দর্জি গুণেন্দ্র আচার্য বলেন, হাওরে পানি ও বৃষ্টির কারণে খলা ভিজে যাওয়ায় কৃষকেরা ধান শুকাতে পারছেন না। তাই তারা নেট জাল তৈরির জন্য দর্জিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। দিনে ৮টি নেট জালের চাহিদা থাকলেও তারা ৪ থেকে ৫টির বেশি তৈরি করতে পারছেন না। অনেক কৃষক সন্ধ্যার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করে কাজ শেষে নেট জাল নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, গত বছর যেখানে একটি নেট জাল তৈরির মজুরি ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, সেখানে এবার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজের চাপ বেড়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ দিন এ চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
সাচনা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতায় অনেক হাওরের ধান তলিয়ে গেছে। আবার কোথাও খলায় পানি উঠে গেছে কিংবা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে ধান শুকানোর জন্য নেট জালের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দর্জিদের ব্যস্ততা ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।