টানা ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন ধমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, নদীতে পানি তুলনামূলক কম থাকলেও হাওরের জমিতে পাকা ধানের শীষ পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। ফলে অনেক জমিতে হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় শ্রমিকরা মজুরিও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, অনেক কষ্ট করে ধান কেটে খলায় তুললেও সেখানে পানি উঠে যাচ্ছে। রোদ না থাকায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য খড়ও পঁচে যাচ্ছে। শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও বিরাজ করছে। ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর এবং মধ্যনগরের এরন বিল এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। সীমান্তবর্তী মনাই নদীতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় হামিদপুর গ্রামের পাশের গ্রামীণ সড়ক ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আঙ্গারুলী হাওরের বাঁধেও ফাটল দেখা দিয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজিব আহমদ জানিয়েছেন, আগামী চারদিন সুনামগঞ্জে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জরুরি সভা করেছে সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, গত দুই দিন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পানির স্তর কিছুটা নেমেছে। তবে আগামী দুই-তিন দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিনি ২০১৭ সালের ভয়াবহ আগাম বন্যার প্রসঙ্গ তুলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস যদি ১০ মের পর হতো, তাহলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। কিছু শ্রমিক এসে ধান কেটে চলে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে যোগাযোগ করা হলেও সেখানেও ধান কাটার মৌসুম চলায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করলে বন্যার আগেই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।”