মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতায় তিন উপজেলায় বিভক্ত কালাইম গ্রাম

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের কালাইম গ্রাম যেন এক অনন্য কিন্তু বেদনাদায়ক বাস্তবতার নাম। প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রামটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে তিনটি উপজেলায়—গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা। ফলে প্রশাসনিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

গ্রামের প্রধান সমস্যা বরুদল নদী। নদীটি কার্যত কালাইমকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। একই গ্রামের মানুষকে প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন উপজেলায় যেতে হয়। কেউ গোলাপগঞ্জে, কেউ বিয়ানীবাজারে, আবার কেউ বড়লেখায় যেতে বাধ্য হন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে।

কৃষি উৎপাদনে কালাইম গ্রামের সুনাম থাকলেও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নদী পারাপারের ঝুঁকি, সেতু ও উন্নত সড়কের অভাবের কারণে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন। এতে তাদের আর্থিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। উন্নত চিকিৎসা কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রামবাসীকে দূরের উপজেলায় যেতে হয়। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নদী পারাপারের ঝুঁকি অনেক সময় জীবনসংকটও তৈরি করে।

গ্রামের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে একটি মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির কিছু সুবিধাও পাচ্ছেন গ্রামবাসী। তবে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এসব সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

নির্বাচনী কার্যক্রমেও দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে। ভোট দিতে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। এতে বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন। স্থানীয়দের মতে, এটি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোটের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত রয়ে গেছে কালাইম গ্রাম।

এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। বিশেষ করে মেয়েশিক্ষার্থীদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ভোগের কারণে লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

সব মিলিয়ে সম্ভাবনাময় এই জনপদটি ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, বরুদল নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে কালাইম গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এই সম্পর্কিত আরো