সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ সাপেরকোনা গ্রামে এক নিরীহ পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাজু রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী বিবাদীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ২১ মার্চ তার ভাতিজা হাফিজ রেজুয়ান আহমদকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তার ভাই মুজিবুর রহমান আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে শান্তিগঞ্জ থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই বিবাদীরা মামলা তুলে নিতে চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলায় তিনি নিজে লাঠি ও রডের আঘাতে আহত হন বলে জানান। এছাড়া তার ভাইয়ের স্ত্রীকে দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ মোট চারজন আহত হয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা নেন বলে দাবি করা হয়।
এ সময় ঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভেঙে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাজু রহমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম, মেয়ে মাসুমা আক্তার এবং আহত রুখশানা বেগমের ছেলে রেদোয়ান আহমদ।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি উল্লাহ বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”