সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের সংস্কার ও সেতু নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পুরাতন বাসস্টেশন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের পাঁচ কিলোমিটার সংস্কার এবং দুটি সেতু নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের নজরে আনেন। পরে তিনি সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান বলে দাবি করেন বক্তারা।
তাঁদের ভাষ্য, সংসদ সদস্য নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করার পর তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়। বক্তারা এ অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের পাঁচ কিলোমিটার সংস্কার ও দুটি সেতু নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় যথেষ্ট হলেও সেখানে ৮৭ কোটি টাকার পুনঃপ্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে ৪৩ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং চলমান কাজেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ এবং জনস্বার্থে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাবঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে সড়ক উন্নয়নকাজের ব্যয়, প্রাক্কলন ও বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ লিলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাদীর আহমদ, মো. আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, সাইফুল হাসান জুনেদ, যুবদল নেতা কামরুল হাসান রাজু, জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুর রহমান সৌরভ প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সুনামগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন।