সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামে সাধারণ মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা একটি সরকারি জলমহাল আড়াই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাজী চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে। জলমহালটি কেনার দাবি করে স্থানীয় এক ব্যক্তি মৎস্যজীবীদের মাছ শিকারে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গন্ধর্বপুর গ্রামের সাধারণ মৎস্যজীবীদের পক্ষে মুজিবুর রহমান জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে ‘বরডর’ নামের একটি সরকারি জলমহাল রয়েছে। চলতি বছর জলমহালটি সাধারণ মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। গন্ধর্বপুরসহ আশপাশের দুই-তিনটি গ্রামের দরিদ্র মৎস্যজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জলমহালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি মৎস্যজীবীরা জলমহালটিতে মাছ শিকার করতে গেলে গন্ধর্বপুর গ্রামের মৃত হাজী ছামির আলীর ছেলে কাচা মিয়া তাঁদের বাধা দেন। বাধার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাজী চাঁন মিয়ার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকায় জলমহালটি কিনেছেন।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে জলমহালটি উন্মুক্ত রাখা হলেও কাচা মিয়া ও তাঁর লোকজন তাঁদের সেখানে মাছ শিকার করতে দিচ্ছেন না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে গেলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে কয়েকটি গ্রামের দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছে। জলমহালকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
অভিযোগকারী মুজিবুর রহমান জানান, সরকারি উন্মুক্ত জলমহালে মাছ শিকার করেই এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বাধা ও হুমকির কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে তাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলমহালটি অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাজী চাঁন মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, কাচা মিয়া বলেন, “জলমহালটি দিরাজ বাবুর সমবায় সমিতির নামে লিজ নেওয়া। আমি শুধু পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এ কারণে মাছ শিকারে বাধা দিই।”
দিরাজ বিশ্বাস জানান, তিনি তাঁর সমবায় সমিতির নামে মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে জলমহালটি লিজ নিয়েছেন। তবে সমিতির নাম ও লিজসংক্রান্ত দায়িত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট করতে পারেননি।