সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাবেক পুলিশ সদস্য কৃপেশ চন্দ্র রায়কে (৪০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। তবে অভিযুক্তের দাবি, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তাঁর নয়। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসাতে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কৃপেশ চন্দ্র রায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সম্প্রতি তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকাল ৯টার দিকে ‘কৃপেশ রায়’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়। ওই আইডিতে কৃপেশ রায়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দারা তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে পুলিশ কৃপেশ চন্দ্র রায়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে কৃপেশ চন্দ্র রায় দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তাঁর নয়। তাঁর কাকাতো ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ অক্টোবর তিনি তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান।
স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ফেসবুক আইডিটির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা জরুরি। কে বা কারা পোস্টটি দিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, “মুসলিম-হিন্দু আমরা ভাই ভাই। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দাঙ্গা লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। যে অপরাধ করেছে, তাঁর বিচার প্রচলিত আইনেই হবে।” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে কৃপেশ রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসার পর তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তাঁর নয়। আইডিটির প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।