১২ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের বেজগ্রামের সবুর মিয়া। ১৯৮২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর ধরে অন্ধকারেই কাটছে তার জীবন। তবে দৃষ্টিহীনতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। চোখে না দেখেও গ্রামের প্রতিটি অলিগলি তার মুখস্থ।
সবুর মিয়া জানান, ১৯৮২ সালে চোখে সমস্যা দেখা দিলে পরিবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। অস্ত্রোপচার করানো হলেও দৃষ্টিশক্তি ফেরেনি। এরপর লাঠিই হয় তার চলার একমাত্র সাথী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন লাঠি দিয়ে চলতে চলতে পুরো গ্রাম মুখস্থ হয়ে গেছে। আল্লাহর রহমতে স্বাভাবিক মানুষের মতোই চলাচল করতে পারি। গ্রামের মানুষ যে সহযোগিতা করেন, তা দিয়েও সংসারে সাহায্য করি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি ২ ছেলে ও ৪ মেয়ের জনক। এক ছেলের দিনমজুরির আয়ে ৮ জনের সংসার চলে। অন্য ছেলে অসুস্থ থাকায় রোজগার করতে পারেন না। ৮ সদস্যের পরিবার একটি ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সবুর মিয়া আরও বলেন, এক রুমে ৮ জনের খুব কষ্টে দিন কাটছে। ২ রুমের একটি ঘরের সহযোগিতা পেলে একটু স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারতাম।
তবুও অবাক করার বিষয়, সবুর মিয়া একা একাই হেঁটে বেড়ান পুরো গ্রাম। কারো সাহায্য ছাড়াই চলে যান বাজারে, মসজিদে।
সবুর মিয়ার ভাতিজা আবুল হোসেন বলেন, আমাদের জন্মের পর থেকেই দেখছি সবুর চাচাকে। তিনি চোখে দেখেন না, কিন্তু এমনভাবে চলাফেরা করেন মনে হয় সব দেখতে পান। গ্রামের সব রাস্তা তার মুখস্থ।
আরেক প্রতিবেশী সাহেদ বলেন, আল্লাহ তার চোখের আলো কেড়ে নিয়েছেন, কিন্তু মনের আলো দিয়েছেন। অন্ধ হয়েও তিনি কারো বোঝা হননি।
চোখে আলো নেই, কিন্তু মনের জোরে আজও পথ চলছেন সবুর মিয়া। তার এই পথচলা যেন সমাজের চোখ খুলে দেয়, ইচ্ছা থাকলে অন্ধকারেও পথ খুঁজে নেওয়া যায়।