সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
দশমীর সকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে বেজে ওঠে দেবীর বিদায়ের সুর। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে দুপুর থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। এ বছর ছাতক উপজেলা ও পৌরসভায় মোট ৩০টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিকেল ৪টার দিকে ছাতক পৌর শহরের কুমনা রাখালতলা পূজামণ্ডপের প্রতিমা পৌরসভার বিউটিফিকেশন চাঁদনীঘাটে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ ছাড়া শহরের মণ্ডলীভোগের চৈতন্য সংঘ, হাসপাতাল রোডের ত্রিনয়নী পূজামণ্ডপ, মণ্ডলীভোগ কালীবাড়ি, বাগবাড়ির শিববাড়ি, রেলওয়ে কলোনি মাঠের মহামায়া পূজামণ্ডপ এবং উপজেলার জাতুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে চাঁদনীঘাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। আনন্দ, আবেগ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। অসুরিক প্রবৃত্তি পরিহার করে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে এ উৎসব।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন জানান, এ বছর ছাতক উপজেলা ও পৌরসভায় ৩০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আটটি মণ্ডপের প্রতিমা সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বাকি ২২টি মণ্ডপের প্রতিমা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও পৌর শহরের মণ্ডপসংলগ্ন নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও থানা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পূজার সূচনা থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
ছাতক থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন পিপিএম জানান, থানায় যোগদানের পরই তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।