সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র হাতে পাচ্ছেন না সুনামগঞ্জের ১২০ প্রার্থী। গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশনকে কেন্দ্র করে নিয়োগ আটকে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রত্যাশীরা বিষয়টি দ্রুত পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় আট মাস ধরে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার প্রহর গুনছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। শেষপর্যায়ে নিয়োগ তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চাকরিবঞ্চিত প্রার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান নিয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, যথাযথ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমাদের নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে কী কারণে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে হতাশ হয়েছি। আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। থানায় কোনো মামলাও নেই।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সামন্ত কুমার দাস বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় মেধাতালিকায় আমার অবস্থান ছিল নবম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষপর্যায়ে এসে চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় আমার নাম দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ৬৩৫ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ১২০ জনকে আপাতত নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস গণমাধ্যমে বলেন, ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনেকে নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে যতটুকু আইনি সহযোগিতা করা সম্ভব, আমরা তা করব। আশা করছি, দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।’