মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভেজাল, অননুমোদিত ও মানহীন খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে চিংড়িতে জেলি পাওয়ায় দুই মাছ বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একটি বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।
অভিযানকালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মৌলভীবাজারের ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নতুন বাজারের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বিক্রির জন্য রাখা চিংড়িতে জেলির উপস্থিতি শনাক্ত হলে দুই মাছ বিক্রেতার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে সিন্দুরখান রোডের ভিআইপি বেকারিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নন-ফুডগ্রেড রং ব্যবহার, কিছু পণ্যে মেয়াদের লেবেল না থাকা, ‘হরলিক্স’ নাম ব্যবহার করে বিস্কুট উৎপাদন, কিছু পণ্যে পরবর্তী দিনের উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ এবং অপরিষ্কার ট্রেতে খাদ্যপণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায় বলে অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ছাড়া বেকারিটির ৩৭টি পণ্যের মধ্যে ৩৪টি পণ্যের বিএসটিআই অনুমোদন না থাকার বিষয়টিও অভিযানে ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
অভিযানে মোট তিনটি মামলায় তিনজনের কাছ থেকে সর্বমোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মৌলভীবাজারের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইনসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে ভেজাল, অননুমোদিত ও মানহীন খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।