সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের পাশে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’।
সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এমডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হাসানসহ স্থানীয় সামাজিক বনায়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নারী সদস্য এবং পরিবেশ সচেতন সাধারণ মানুষ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে বর্তমানে কোনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়নমূলক কাজ চলছে না। অথচ উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে বন বিভাগ ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সওজের বক্তব্যের সঙ্গে বন বিভাগের গাছ কাটার কার্যক্রমের এই বৈপরীত্যের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।
তারা অভিযোগ করেন, গাছ কাটার নেপথ্যে বন বিভাগের একটি অসাধু চক্র ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ যথাযথভাবে প্রদান এবং গাছ কাটার সঙ্গে বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের কেউ জড়িত থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
ইতোমধ্যে কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই সড়কের পাশে নতুন করে দ্বিগুণ পরিমাণ সামাজিক বনায়ন করারও দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ করা না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।