জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার বিকেলে নবীগঞ্জ শহরের নতুন বাজার মোড়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আজমত আলীর সহধর্মিণী রবিরুল বেগম।
সভায় বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি, নবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা এমদাদুল হক, সাংবাদিক মুরাদ আহমদ, রাশেদ মিয়া, হাফেজ সাইফুর রহমান, প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা হুসাইন তালুকদার, ইসলাম ইফতি, শফিকুল ইসলাম, কাজী খোকন, শাহ তালহা, সাজ্জাদুর রহমান, রবিউল ইসলাম, শাকিল আহমদ ও শাহরিয়ার আহমদ মাসুমসহ অনেকে।
জুলাই যোদ্ধা ও নবীগঞ্জ উপজেলা যুব মজলিসের সভাপতি মুফতি ফরহাদুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা নাবেদ মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আহত জুলাই যোদ্ধা সায়মন আহমদসহ অরবিন্দু রায় জুয়েল চৌধুরী, কামরুল চৌধুরী, আহমদ হোসাইন, ইয়াছিন মিয়া, শাহিন তালুকদার, বদরুল আলম লিমন, শাহ হুসাইন আহমদ, সুহাগ চৌধুরী, জামিল আহমদ, ফেরদৌস হাসান অনিক, মারুফ চৌধুরী, রাখী জুবায়ের, হাফেজ জামিল, হাফেজ আক্তার হোসাইন, সেজু আহমদ, নাদিম আহমেদ তুহিন, নোহাস আহমেদ, নিসাদ আহমেদ, সাবের আহমেদ, মাহবুব আলী, ইমন আহমেদ, এহসান, মামুন আহমেদসহ বিপুলসংখ্যক জুলাই যোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।
এছাড়া বক্তাদের দাবি, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের একটি অনুষ্ঠানে চিহ্নিত আওয়ামী যুবলীগ নেতাদের আপ্যায়নের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনাসহ ইউএনও মো. রুহুল আমীনের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বক্তারা তাঁর দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।