শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

৫ দিনের ইজারা, দেড় মাসের বাণিজ্য! কার ছত্রছায়ায় চলছিল চিকনাগুল পশুর হাট?

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাঁচ দিনের জন্য ইজারা দেওয়া অস্থায়ী পশুর হাটের কার্যক্রম মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরও চলতে থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বাংলাদেশ চা বোর্ডের জায়গায় নির্মিত অবৈধ গরুর শেড অপসারণ করা হয় এবং বাজার-সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়ের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে চিকনাগুল বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বাংলাদেশ চা বোর্ডের জায়গায় নির্মিত অবৈধ গরুর শেড ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি বাজার কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ এবং বাজারের মালিকানা ও বৈধতা-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চিকনাগুল বাজারে পাঁচ দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শর্ত অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত পশু কেনাবেচার অনুমতি ছিল। সরকারি ইজারায় চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মছদ্দর আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন হাটটির ইজারা নেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হাটটি অবৈধভাবে চালু রাখা হয়। সেখানে নিয়মিত পশু কেনাবেচা, হাসিল আদায় এবং রসিদ প্রদান করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে কামাল আহমদসহ কয়েকজন নিয়মিত হাসিল আদায় করতেন এবং ব্যবসায়ীদের রসিদ দিতেন।

ঈদের সময়ের ইজারাদার ইকবাল হোসেন বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় উপজেলার স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে পরিচালিত এ হাটের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার বৈধ পশুর হাটগুলোর ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অস্থায়ী পশুর হাটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাজার পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে এবং বাজারের মালিকানা ও বৈধতা-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সম্পর্কিত আরো