সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রুস্তুমপুর ও পাড়ুয়ার মধ্যবর্তী বিস্তৃত এলাকায় গত কয়েক মাসে বালুখেকোদের তাণ্ডবে শত শত একর কৃষি জমি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। একসময়ের ফসলি জমি এখন পরিণত হয়েছে বিশাল জলাশয় আর গভীর খাদে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের এখন প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত 'তিনতালা' নামক এলাকার পিলখানায় কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। বিশেষ করে তিন বছর ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) বসবাসরত প্রবাসী দম্পতি সাইনি আক্তার শাবা তালুকদার ও রোকন মো. জিতু তালুকদারের রেকর্ডীয় মালিকানাধীন ক্রয়কৃত ০.১৮৫০ একর ভূমি (দলিল নং- ২৪৪, তারিখ- ২০/০২/২০০৮ইং, বিএস দাগ নং- ১০৯২) থেকে নির্বিচারে বালু লুট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি বালু সিন্ডিকেট ফসলি জমি খুঁড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর খাদ তৈরি করে অন্তত অর্ধকোটি টাকার বালু লুট করে নিয়ে গেছে।
বালু লুটের পর এখন প্রবাসী দম্পতি শাবা তালুকদার ও জিতু তালুকদারকে দেশে ফিরলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসীরা।
লন্ডন থেকে পাঠানো এক বার্তায় রোকন মো. জিতু তালুকদার জানান ‘গত ৭ই জুলাই গভীর রাতে আমাদের স্থায়ী দেশের বাড়িতে ৪-৫ জনের একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী হানা দেয়। তারা পরিবারের সদস্যদের ডেকে আমাদের নাম ধরে শাসায় এবং দেশে ফিরলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর থেকে আমাদের দেশের বাড়িতে থাকা স্বজনরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।’
অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নূর আহমদকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে ৮-১০টি লিষ্টার মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে কোটি কোটি টাকার বালু লুটে নেয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি সফল অভিযানে বর্তমানে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও, নেপথ্যের হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী দম্পতির দাবি, চিহ্নিত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং আসামিরা প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও চিহ্নিত বালু খেকোদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এই প্রবাসী দম্পতি।