দিরাই পৌর শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক দিরাই বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশের মতো।
দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোলা ড্রেন, জমে থাকা নোংরা পানি ও দুর্গন্ধে বাজারের পরিবেশ দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক সপ্তাহে ড্রেনে পড়ে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অথচ কাজ দ্রুত শেষ করার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলী মিয়ার দোকান থেকে কালনী নদী পর্যন্ত প্রায় ২৩৫ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য রাস্তার একপাশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনে জমে আছে কালো পানি ও আবর্জনা। বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের ওপর কাঠের তক্তা কিংবা বাঁশ ফেলে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাজারে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত সতর্ক হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকারের 'কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার ও প্রতিক্রিয়া' প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৩ লাখ টাকার এই ড্রেন নির্মাণকাজের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে ৩ জুন পর্যন্ত। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ৩ আগস্ট নির্ধারণ করা হলেও এখনো কাজের অধিকাংশ অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।
পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে কাজের অগ্রগতি ১৫ শতাংশের বেশি নয় বলে জানা গেছে।
বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজ শুরুর পর কয়েক দিন শ্রমিক দেখেছি। এরপর মাসের পর মাস কাজ বন্ধ। ড্রেন খুঁড়ে রেখে যাওয়ায় ক্রেতারা দোকানে আসতে অসুবিধা বোধ করেন। এতে ব্যবসারও ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়নকাজের নামে আমাদের দুর্ভোগই শুধু বেড়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী উপানন্দ মজুমদার বলেন, একটি ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ করতে যদি এত দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও প্রশাসন একে অপরকে দায়ী করছে, কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
পথচারী নাছির উদ্দীন বলেন, রাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। অনেক জায়গায় কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন বা নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। গত কয়েক দিনে কয়েকজন ড্রেনে পড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?”
পথচারী দীপক দাস বলেন, ড্রেনে জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানির কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক সময় বাজারে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে। দোকানদার ও আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকেই শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের ধীরগতির বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে পৌর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক এখন দুর্ভোগ ও অব্যবস্থাপনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের কারণে প্রশাসনের নির্দেশে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। সে কারণেই বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরও কেন কাজের গতি বাড়ানো হয়নি, সে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
দিরাই পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্য বলেন, বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে কাজে বিলম্ব করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পৌর প্রশাসক জিয়াউল হাসান সৌরভ বলেন, ড্রেনের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যখন কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ, তখন দায় কার? জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়লেও কেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এ প্রশ্নই এখন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।