সিলেটের জৈন্তাপুরে নদী রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। মোবাইল কোর্টের এই অভিযানে বড়গাঙ ও সাবড়ী নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা প্রায় ৪ লাখ ৮৭ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এই বালু আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৪টায় উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।
গতকাল রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চারতলারপাড় ও ডুলটিরপাড় এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বড়গাঙ ও সাবড়ী নদী থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। রবিবার পরিচালিত অভিযানে চারতলারপাড় ও ডুলটিরপাড় এলাকার ৪৮টি স্পটে স্তূপ করে রাখা মোট ৪ লাখ ৮৭ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করে প্রশাসন।
অভিযানে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিহাব বিন আমিন এবং জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব। অভিযান পরিচালনাকালে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিহাব বিন আমিন জানান, সিলেটের জেলা প্রশাসকের বিশেষ নির্দেশনায় এই টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় জব্দকৃত বালুর মালিক বা অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত কাউকে ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত বালুগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় সাময়িকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় জানান, ‘অবৈধভাবে উত্তোলিত ও জব্দকৃত বালু আজ সোমবার বিকেল ৪টায় প্রকাশ্য ও উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় অবৈধ বালু খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর ও জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।