ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক 'পুশইন' প্রতিরোধের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রবিবার (৭ জুন) মধ্যরাত থেকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবির এই বাড়তি তৎপরতা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার মোট ১২০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, এই সীমান্তের ৯০ কিলোমিটার এলাকা সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এবং বাকি ৩০ কিলোমিটার এলাকা সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নিয়ন্ত্রিত ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে ৬টি পয়েন্টে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। ফলে এই অরক্ষিত স্থানগুলো অনুপ্রবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইন ঠেকাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে বিজিবি।
এ বিষয়ে ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা যাতে কোনো ধরনের উস্কানি বা অপতৎপরতার শিকার না হন, সেজন্য তাদের সজাগ থাকতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা ও মাইকিং চালানো হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাতে বিজিবির টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়ায় জনমনে বাড়তি সতর্কতা বিরাজ করছে। বিজিবির এমন তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজিবি কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ রুখতে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।