শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

জামালগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকারে বেপরোয়া জেলেরা

মাছ সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের চলমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নদ-নদী ও হাওরে অবাধে মাছ শিকার করছেন জেলেরা।

কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই তারা বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে, বিশেষ করে সাচনা মাছ বাজারে হাওর থেকে ধরে আনা মাছের প্রকাশ্য বেচাকেনা চলছে।

জানা যায়, মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার ২৮ জুন পর্যন্ত এক মাসের জন্য হাওরে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা কারেন্ট জাল, রিং জাল, কিরণমালা জাল, বেড় জাল ও যাকি জাল নিয়ে দলবেঁধে হাওরে ছুটছেন। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে তারা মাছ শিকার করে চলেছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই যে হাওরের সব ধরনের মাছ ধরা বর্তমানে নিষিদ্ধ।

সরেজমিনে পাগনার হাওর, হালির হাওরসহ বিভিন্ন নদ-নালায় দেখা গেছে, ছোট ছোট নৌকায় করে জেলেরা নিষিদ্ধ জাল নিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত। কোথাও জাল ফেলার প্রস্তুতি চলছে, কোথাও মাছ ধরা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে রাতভর মাছ শিকার শেষে ভোরে ফিরছেন জেলেরা। পরে এসব মাছ আড়তগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের মতোই হাঁকডাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও মৎস্য বিভাগের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেক মৎস্যজীবী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতেন না বলেও দাবি করেছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ জাল জব্দ, ধ্বংস কিংবা নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা বা কারাদণ্ডের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীদের মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

আমানিপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি জয়মোহন বর্মন বলেন, হাওরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার খবর আমরা জানতাম না। বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিলে মৎস্যজীবীদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি খাদ্য সহায়তা ছাড়া এক মাস পরিবার নিয়ে চলা কঠিন। অনেক জেলে আছেন, যারা মাছ না ধরলে পুরো পরিবারকে উপবাস থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযান সফল করতে হলে জেলেদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, আমাদের নাম দিয়ে পেটে লাথি মারবেন না। সরকার যদি এক মাসের খাদ্য সহায়তা দিত এবং আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাছ ধরা বন্ধ রাখতাম।

তারা আরও বলেন, ছোট মাছ ধরলে ক্ষতি হয়, এটা আমরা জানি। কিন্তু পেটের দায়ে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত উপেক্ষা করে হাওরে নামতে হয়। সরকারি সহায়তা পেলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরাও সহযোগিতা করব।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, হাওরে মাছের প্রজননকালীন সময়ে এক মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মা মাছ ও পোনা মাছ রক্ষা পাবে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে জেলেদের প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো প্রণোদনার ব্যবস্থা করেনি। ফলে জেলেদের পরিবার নিয়ে চলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এ বছর হাওরে ফসলহানির কারণে এমনিতেই মানুষ কষ্টে আছে। তাই প্রণোদনা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। আমরা হাওরের জেলেদের জন্য এক মাসের প্রণোদনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে মাইকিং করে মাছ ধরা বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ মাসে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, তবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য সহায়তার বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলেদের খাদ্য সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। চলতি বছর সহায়তা না পেলেও আগামীতে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এই সম্পর্কিত আরো