শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
ভারতে বিশেষ কোনো ধর্ম-গোত্রের ক্ষতি না করার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার ছলচাতুরী করছে: নাহিদ ইসলাম ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩.৫ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে গেল ট্রাম্প প্রশাসন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আসাম, বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত হামে ৩৫০ এর অধিক শিশুর মৃত্যু: সিলেটে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যা শিল্পকারখানা চালু থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, অর্থনীতি সচল থাকে : বাণিজ্যমন্ত্রী তাপপ্রবাহ না থাকলেও সপ্তাহজুড়ে ভ্যাপসা গরম থাকবে একটি যুদ্ধ শেষ, আরেকটি শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
advertisement
সিলেট বিভাগ

জামালগঞ্জে জলাবদ্ধ হাওরের ধান তুলতে ব্যস্ত কৃষক, শ্রমিক সংকটে মাঠে নারীরা

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা জুড়ে জলাবদ্ধ হাওরের পাকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ধান পেকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা। দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। বর্তমানে উপজেলায় প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক দলকে প্রতি কেয়ার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় চুক্তিভিত্তিক ধান কাটাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে দিতে হচ্ছে দুপুরের খাবারও। তারপরও মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। ফলে কষ্টার্জিত ধান ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় কৃষকদের চোখেমুখে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের নারীরা। কাটা ধান আনা, মাড়াই করা, ধান ও খড় শুকানোর কাজে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন তারা। উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর হাওর ও নন-হাওর এলাকায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু অপরিপক্ব বাঁধ, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকের কষ্টের ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ শ্রমিক দিয়ে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরকার ঘোষিত বন্যার পূর্বাভাস ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফসলের খলা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। তাই তারা যেকোনো উপায়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষকদের বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে হারভেস্টার মেশিন। জলাবদ্ধ জমিতে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেকেই মেশিনের আশায় বাইরে থেকে শ্রমিক আনেননি। ফলে স্থানীয় যে অল্পসংখ্যক শ্রমিক রয়েছে, তাদেরও বাড়তি মজুরি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই মিলে হাওরে নেমে ধান কাটছেন। মাঠের পর মাঠ ধান পেকে গেলেও সময়মতো কেটে ঘরে তুলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে কৃষকদের।

উপজেলার হালির হাওরে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষাণী খুদেজা বেগম বলেন, “শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে আমরা নিজেরাই কষ্ট করে জমির ধান তুলছি। নাতনি হালেমা বেগমকে নিয়ে হাওর থেকে ধান আনছি। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ফলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে।”

ধান কাটার শ্রমিক আব্দুল আলী বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কেটে মালিকের খলায় পৌঁছে দিই। এতে দিনে ১২০০ টাকা ও একবেলার খাবার পাই। অনেকেই এই মজুরি বেশি বলেন, কিন্তু সারাদিন পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করা খুবই কষ্টের। ঘরে ফিরে গোসল করার পর পুরো শরীর চুলকাতে থাকে। সেই কষ্ট কেউ দেখে না।”

হালির হাওরের কৃষক সুলেমান, এমদাদুল হক, আবু সায়েদসহ একাধিক কৃষক জানান, এখন ধান কাটার পুরো মৌসুম চললেও চাষের তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা খুবই কম। একসময় বাইরের শ্রমিকরা নৌকা বা গাড়িতে করে এসে ধান কেটে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান নিতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের কারণে বাইরের শ্রমিক আনা কমে যায়। টানা চার বছর ভালোভাবে ধান ঘরে তুললেও এবার অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে পরিবারের নারী-পুরুষ সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে হাওরে নেমে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করতে হচ্ছে।

তারা আরও জানান, ধান কেটে খলায় আনার পরও টানা বৃষ্টির কারণে তা শুকানো যাচ্ছে না। এতে কাটা ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল। প্রতিটি গ্রামে কৃষকের সংখ্যা বেশি হলেও সেই তুলনায় শ্রমিক নেই। ফলে দুর্যোগের এই সময়ে কার আগে কে ধান কাটবে, সেই প্রতিযোগিতা চলছে। আর শ্রমিক সংকটের সুযোগে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে তাদের ওপর “মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা” হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা শ্রমিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে প্রায় ৭৬ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিক কম থাকায় হাওরের কষ্টার্জিত ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এই সম্পর্কিত আরো

ভারতে বিশেষ কোনো ধর্ম-গোত্রের ক্ষতি না করার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার ছলচাতুরী করছে: নাহিদ ইসলাম

ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩.৫ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে গেল ট্রাম্প প্রশাসন

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আসাম, বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত

হামে ৩৫০ এর অধিক শিশুর মৃত্যু: সিলেটে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ।

অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যা

শিল্পকারখানা চালু থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, অর্থনীতি সচল থাকে : বাণিজ্যমন্ত্রী

তাপপ্রবাহ না থাকলেও সপ্তাহজুড়ে ভ্যাপসা গরম থাকবে

একটি যুদ্ধ শেষ, আরেকটি শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী