চার বছর অপেক্ষার অবসান। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রতীক্ষার প্রহর শেষ করে আগামীকাল পর্দা উঠছে বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, আর সেই উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও।
এবারের বিশ্বকাপের বিশেষত্ব হলো, প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই প্রতিযোগিতায়। তিনটি দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ এই মহাযজ্ঞ। ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ।
আগামীকাল মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই আসর, যা বিশ্বকাপকে দিয়েছে নতুন এক মাত্রা।
বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর অগণিত স্বপ্নের গল্প। শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা তাদের মুকুট ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবে, অন্যদিকে ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগালসহ শক্তিধর দলগুলোও প্রস্তুত বিশ্বসেরার লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে।
এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অনেকের ধারণা, এটি হতে পারে তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, ফলে দুই কিংবদন্তিকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহও তুঙ্গে।
বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতির মানুষকে এক সুতোয় গাঁথার এক অনন্য উৎসব। আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে থমকে যাবে ব্যস্ততা, রাত জেগে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখবে কোটি মানুষ, নতুন নায়ক জন্ম নেবে, কেউ ভাঙবে রেকর্ড, কেউ আবার চোখের জলে বিদায় জানাবে স্বপ্নকে।
বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যও রয়েছে সুখবর। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি নিউজ চ্যানেল সময় টেলিভিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও টি-স্পোর্টস বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। ফলে দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল উৎসব।
ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা— প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, উপভোগ্য ও বিতর্কমুক্ত একটি বিশ্বকাপ উপহার দেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। আর শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, সেই উত্তর মিলবে আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে।