শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

প্রবাসীদের অংশগ্রহণে কুয়ালালামপুরে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উদযাপন

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘জুলাই অনির্বাণ’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ হাই কমিশনের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, “জুলাই শহিদ দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ইতিহাসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁদের আত্মদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শহিদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিটের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহ, এনবিএল মানি ট্রান্সফারের সিইও আলী হায়দার মোর্তজা, জাতীয়তাবাদী যুবদল মালয়েশিয়ার সভাপতি মো. জসিমউদ্দীন, সাংবাদিক মো. আমিনুল ইসলাম রতন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মালয়েশিয়ার সদস্য সচিব শামসুল আলম সিকদার হেলাল, জাসাস মালয়েশিয়ার সভাপতি শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সূচিত গণআন্দোলন সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

তাঁরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহিদ আবু সাঈদ, মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহিদকে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আদর্শ ধারণ করে মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন।

শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এই সম্পর্কিত আরো