হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। শনিবার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পিটার মাজিয়ার। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা ভিক্টর অরবানের শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।
অরবানকে দীর্ঘদিন ধরে রুশপন্থি নেতা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী মাজিয়ারকে ইউরোপপন্থি ও সংস্কারমুখী রাজনীতিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শপথগ্রহণের আগে রাজধানী বুদাপেস্টে জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মাজিয়ার বলেন, হাঙ্গেরির জন্য ‘নতুন ইতিহাস’ রচনার সময় এসেছে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হন।
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিবর্তনের পথ সহজ নয়, তবে শেষ পর্যন্ত জনগণই জয়ী হয়। তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষও বড় স্বৈরশাসনকে পরাজিত করতে সক্ষম— হাঙ্গেরির জনগণ সেটিই প্রমাণ করেছে।
পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে মাজিয়ার বলেন, জনগণ শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, পুরো শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই তার দলকে নির্বাচিত করেছে। তিনি হাঙ্গেরিকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার প্রতিশ্রুতি দেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হয়েছে।
এর আগে এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ভিক্টর অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ‘ফিদেজ’ বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় এবং জয় পায় পিটার মাজিয়ারের মধ্য-ডানপন্থি ‘তিসজা পার্টি’।
উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে টানা ১৬ বছর হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ভিক্টর অরবান।