ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর (মেট্রো) এলাকার বাইরে পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এতে নতুন করে বেকার হবে না, ট্রাফিক ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, একই সময়ে ঢাকায় লাখ লাখ অটোরিকশা চললে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে রাতারাতি হাজার হাজার অটোরিকশা (ব্যাটারিচালিত রিকশা) রাস্তায় নেমে গেছে। বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের রাতারাতি উচ্ছেদ করা কঠিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেহেতু হাজার হাজার মানুষ, বেকার সমস্যা বেশি; তাই অটোরিকশাচালকদের পুনর্বাসন না করে রাতারাতি বেকার করে দিলে সমস্যা সৃষ্টি হবে। সে জন্য সরকার চেষ্টা করছে তাদের মহানগর এলাকার বাইরে অন্যভাবে পুনর্বাসন করতে; যাতে বেকারত্ব তৈরি না হয়, ট্রাফিকেরও কোনো সমস্যা না হয়।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ঢাকার যানজট নিরসনে ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তনের’ কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এআই প্রয়োগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা) সুফল ইতিমধ্যে জনগণ পেতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
রাতের বেলায়ও চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে জনসচেতনতা বেড়েছে।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় বিচারকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সঠিক নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এ বিচারকাজ শেষ হবে।
এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের আসন্ন বৈঠক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যেখানে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক পাচারসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।