ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল এবং ভারী বর্ষণে সিলেট অঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরইমধ্যে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে মৌলভীবাজারের মনু নদী। সিলেটে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন ও সারি-গোয়াইন এবং সুনামগঞ্জে বিভিন্ন পয়েন্টে সুরমা নদীতে পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার নীচে রয়েছে। বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এমন তথ্য জানিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে মৌলভীবাজারে বন্যা শুরু হয়ে গেছে। সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এখন যে বৃষ্টি আছে তা আরও অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২২ মিলিমিটার। টানা এই বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢল যুক্ত হয়ে নদীগুলোর পানির উচ্চতা বাড়াচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন ও সারি-গোয়াইন নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার হলেও মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার। সিলেট পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি সেখানে বিপৎসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এসব জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
আরো বলা হচ্ছে, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে। ফলে হবিগঞ্জ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়া স্বাভাবিক। বর্তমানে সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়তে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, আগামী কয়েকদিন উজান ও দেশের ভেতরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পানি পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রেরতথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত মনু নদীর পানি বিপৎসীমার দেড় সেন্টিমিটার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।