সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীর পাড় কেটে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দোয়ারাবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় নদীর পাড় কেটে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই বেআইনিভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(খ), ১২ ও ১৫(১) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে—জয়নাল আবেদিন মেম্বার (৫৫), জিয়াউর রহমান বোষ (৩৫), জহর মেম্বার (৫৫), আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান (৬০), মোহাম্মদ আলী (৩৫), ধন মিয়া মেম্বার (৬০), রফিকুল ইসলাম (৪০), ফখরুল ইসলাম (৪০), নিজাম উদ্দীন নিধান (৫২), ফরিদ মিয়া (৪৫), শরিফ মিয়া (৩৫), মনসুর আলী (৪০), সিদ্দিক মিয়া (৪৮), চেনু মিয়া (৪০), জামশেদ মিয়া (৬২), আলা উদ্দীন (৪০), ওমর (৪০), রফিক মিয়া (৩৮), কালাম ডাক্তার (৪৮), আইনুদ্দিন (৪০), সাদ্দাম মিয়া (৩৫), সানি মিয়া (২৫), মনির মিয়া (২২), জালাল মিয়া (৫৫), মাসুক মিয়া (২৮), সমুর মিয়া (৪০), বাসির মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩৫), আবুল কালাম (৪৫), নুরু মিয়া (৪৪), বকুল মিয়া (৩৫), মো. আলী (৪০), শফিকুল ইসলাম (৪৫), দ্বীন ইসলাম (৪৫), বুলবুল আহমদ (৪৮), লিটন মিয়া (৪০) ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন ও লোড-আনলোড করা হয়েছে। উত্তোলন করা বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ওই সময়ে আসামিরা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করেছেন। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।