সিলেটের জৈন্তাপুরে পাওনা ৩ হাজার টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীর বসতঘরের চাল থেকে টিন খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের ছৈলাখেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ছৈলাখেল গ্রামের সাহানা বেগম (৫৮) জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বশির আহমদ (৬০) নামের এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে বিবাদী করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাহানা বেগমের ছেলে জামিল আহমদ ঘর নির্মাণের জন্য সারীঘাট দক্ষিণ বাজারের বশির আহমদের রড-সিমেন্টের দোকান থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের টিন কেনেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ৩ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য সময় নেওয়া হয়।
সাহানা বেগমের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই বশির আহমদ পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে জামিল আহমদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটে।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে বশির আহমদ ২-৩ জন মিস্ত্রিকে সঙ্গে নিয়ে সাহানা বেগমের বাড়িতে গিয়ে জামিল আহমদের বসতঘরের চালের টিন খুলতে শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় সাহানা বেগম ও তার ছেলে বাধা দিলে বশির আহমদ হাতে থাকা একটি রড তাদের দিকে তাক করে ধরেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে ঘরের চাল থেকে পাঁচ বান টিন খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব টিনের আনুমানিক মূল্য ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। স্থানীয়ভাবে টিনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও বশির আহমদ কারও কথা না শুনে সেগুলো নিয়ে চলে যান বলে সাহানা বেগমের অভিযোগ।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হন সাহানা বেগম। তবে সালিশে কোনো সমাধান না হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বশির আহমদ বলেন, “আমি পাওনা টাকা পাই। উনি অনেক দিন যাবৎ দিচ্ছেন না। জামিল আহমেদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আমি তা করেছি। তবে আমার পাওনা টাকা পেলে সব নিজ খরচে ফেরত দেব।”
সাহানা বেগমের দাবি, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং খুলে নেওয়া টিনগুলো উদ্ধার করা হোক।