বন্যপাখি শিকার ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ আইন ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপাখি। এতে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে বক পাখি বিক্রি করতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। তার হাতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বক ঝুলতে দেখা যায়। পাখিগুলোর দাম জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি প্রতিটি বক ৩০০ টাকা করে বিক্রির কথা জানান।
স্থানীয়রা জানান, শুধু বক নয়, বিভিন্ন সময় ফাঁদ পেতে শিকার করা নানা প্রজাতির বন্যপাখি খাঁচায় বন্দী করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়। মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশ এসব পাখি কিনছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরিপুর বাজারে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার বন্যপাখি বিক্রির এমন দৃশ্য দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্থান থেকে শিকারিরা বন্যপাখি ধরে এনে বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করেন। শুধু হরিপুর বাজার নয়, সিলেটের বিভিন্ন হাট-বাজারেও প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
বন্যপাখি শিকার বন্ধে আইন থাকলেও তা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। তাদের মতে, প্রকাশ্যে পাখি বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় শিকারিরা উৎসাহিত হচ্ছেন।
২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি নিধনের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে তার তোয়াক্কা না করে হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপাখি বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, এর আগে আগের ইউএনও হরিপুরে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। কোথাও পাখি শিকার বা বিক্রির খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও সচেতন মানুষের দাবি, বন্যপাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত বন্যপাখি শিকার ও প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।