সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ায় মোহাম্মদ আলী (৮৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে নিহতের পুত্রবধূ হোছনা বেগমও রয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও পলাতক আসামি হোছনা বেগমকে গ্রেফতার করে র্যাব-৯, সিপিসি-৩ (সুনামগঞ্জ)-এর একটি দল। পরে বেলা আড়াইটার দিকে হাবিবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অপর দুই আসামি রুহুল আমীন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হোছনা বেগম সোনাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী। অপর দুই আসামি হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমীন (২২) এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইসমাইল মিয়া সৌদি আরবে থাকেন। এ কারণে তাঁর স্ত্রী হোছনা বেগম সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরের বাড়িতে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদ আলীর জমি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য হোছনা বেগম ও তাঁর স্বামী ইসমাইল মিয়া তাঁকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
একপর্যায়ে জমি নিজেদের দখলে নিতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হোছনা বেগম। পরিকল্পনা অনুযায়ী হাবিবনগরের রুহুল আমীনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করেন তিনি।
র্যাব জানায়, ওই চুক্তির ভিত্তিতে গত ১৪ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে রুহুল আমীন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে যান। পরে হোছনা বেগমের সহযোগিতায় তাঁরা ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেখান থেকে পালিয়ে যান তাঁরা।
এ ঘটনায় নিহতের নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হোছনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই দিন দুপুরে পৃথক অভিযানে রুহুল আমীন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার তিন আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দোয়ারাবাজার থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব-৯।