সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কৃষক শাকের মিয়া আধুনিক পদ্ধতিতে চিচিঙ্গা চাষ করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র ২০ শতক জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করেছেন তিনি। মৌসুম শেষে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার চিচিঙ্গা বিক্রির আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের পরামর্শে চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে শাকের মিয়া চিচিঙ্গা চাষের প্রস্তুতি নেন। পরে মার্চের শেষ দিকে উন্নতমানের বীজ রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে চিচিঙ্গা ধরেছে।
শাকের মিয়া প্রতি তিন দিন পরপর খেত থেকে চিচিঙ্গা সংগ্রহ করে স্থানীয় মন্নানঘাট বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, শুরুতে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারদর কিছুটা কমেছে। ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রদর্শনী প্লটে চিচিঙ্গা চাষ করে তিনি ভালো লাভের মুখ দেখছেন।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে রাসায়নিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি জমিতে পর্যাপ্ত জৈব সার ও প্রয়োজনীয় বালাইনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। চাষাবাদে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকার চিচিঙ্গা বিক্রি করেছেন এবং মৌসুম শেষে মোট বিক্রি প্রায় ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন।
শাকের মিয়ার এই সফল প্রদর্শনী প্লট দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় কৃষকেরা ভিড় করছেন। তাঁর সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক কৃষকই এখন চিচিঙ্গা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
শাকের মিয়া বলেন, “অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আমি কৃষিকাজও করি। নিজের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করি। তবে এবার চিচিঙ্গা চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে। আমার খামার দেখে অনেক কৃষকই এখন চিচিঙ্গা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
স্থানীয় কৃষক ইয়ার আলী বলেন, “পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ থাকলে কৃষিতে সফল হওয়া সম্ভব। শাকের মিয়ার সফলতা আমাদেরও চিচিঙ্গা চাষে উৎসাহিত করেছে।”
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, “এ অঞ্চলের মাটি চিচিঙ্গা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ‘সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রদর্শনী প্লটে চাষ করে শাকের মিয়া দারুণ সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই সফলতা আগামীতে এলাকায় চিচিঙ্গার আবাদ আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।”