মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি রোপণ করা আউশ ধান ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের চাপে বুধবার রাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুত বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেঁতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সময়মতো সংস্কার করা হলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হতো না। আকস্মিক ভাঙনে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং আউশ ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন জানান, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বাধার কারণে মখাবিল এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ দীর্ঘদিন ধরে করা সম্ভব হয়নি। ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই ওই এলাকায় ভাঙন ও বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও পানি বাড়ছে। এতে কৃষকদের আউশ ধান ও সবজিক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে কমলগঞ্জের মাধবপুর-ভানুগাছ হয়ে শ্রীমঙ্গল সড়কের নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আরও ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বন্যার পানি এখনও অনেক এলাকায় থাকায় ফসলের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফের বাধার কারণে ওই অংশে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, টানা বৃষ্টি ও নদীভাঙনের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।