দৈনিক সবুজ সিলেট-এ গত ২৮ জুন প্রকাশিত "মাদক ও অনলাইন জুয়ার দ্বিমুখী ছোবলে ক্ষতবিক্ষত সিলেটের সীমান্ত জনপদ" শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই সিলেটের গোয়াইনঘাটে অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। অভিযানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন।
সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার সারিঘাট পুরাতন বাজারের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—জুবায়ের আহমেদ, সাগর মালাকার, মফিজুর রহমান, শাহীন আহমেদ ও আজিজুল হক। তাদের সবার বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলায়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেগুলো অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা '77abc', 'Night Teer', '1111bet'-সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ২০০ টাকা বিনিয়োগে ৩ হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেন এবং এর বিপরীতে কমিশন গ্রহণ করতেন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোতেও অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন দৈনিক সবুজ সিলেট-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল, সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটসহ সিলেটের পাঁচটি উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, 1xBet, Melbet, Babu88সহ বিভিন্ন অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণদের একটি বড় অংশ জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার অর্থ জোগাতে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই গোয়াইনঘাটে র্যাবের এই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, সীমান্তজুড়ে গড়ে ওঠা অনলাইন জুয়া ও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে ধারাবাহিক অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমগুলোতেও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া, মাদক এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।