সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজীরপুর বাজার ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার, চোরাচালান, মাদক বাণিজ্য এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকাটিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ফলে জননিরাপত্তা, পরিবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দ্বি, সাম্প্রতিক সময়ে হাজীরপুর সীমান্তকে ব্যবহার করে মানবপাচারের তৎপরতা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্তপথে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে একটি মানবপাচার চক্রের সদস্য আটক হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজীরপুর বাজারকে কেন্দ্র করেই এসব নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদন সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাজীরপুর বাজার ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রমও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য, প্রসাধনী এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চোরাচালানের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম তরুণ সমাজ ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পশ্চিম জাফলংয়ের হাজীরপুর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়া সরকারি জমি ও নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, কৃষিজমি এবং স্থানীয় সড়ক অবকাঠামোর ওপর।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর বাজার এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং তারা আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ জরুরি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, অপরাধ দমনে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।