সুনামগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাতক উপজেলার জালালপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ চারজন নিহত হন। এছাড়া দিরাই-মদনপুর সড়কে বাসচাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছাতক উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি তাহিরপুর উপজেলার তিউর জালাল গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (৫৫)। অন্য নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
আহতদের মধ্যে নিলুফার আক্তার (৩৫), কেয়া আক্তার (১৫) ও শাহাবুদ্দিন (৪৫) রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল রিফাত পরিবহনের একটি বাস। বিপরীত দিক থেকে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আসছিল। জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বাম দিক থেকে ডান দিকে চলে যায় এবং সিএনজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রচণ্ড সংঘর্ষে সিএনজিটি সড়ক থেকে ছিটকে অনেক দূরে গিয়ে পড়ে এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক ও যাত্রী ইউসুফ আলীর মৃত্যু হয়। পরে আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও দুজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব জানান, আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার বলেন, “ছাতকের দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।”
এদিকে, একই দিনে দিরাই-মদনপুর সড়কে দ্রুতগতির একটি বাসের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী (৪০) নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী বাসটি ওই নারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।