রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে এম এ মান্নান প্রাথমিক মেধা বৃত্তির পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব: এমপি কয়ছর আহমদ পেনাং-এ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা’ অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে চোর সিন্ডিকেটের হানা; মাঠে নেমেছে বাজার কমিটি সাতটার পরই অন্ধকার সিলেট: লোডশেডিং ও বন্ধ দোকানে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি মেধাভিত্তিক জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কে ধান ও খড় শুকানো: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কুলাউড়ায় কেটিএফ মেধাবৃত্তি পেল ৭০ শিক্ষার্থী
advertisement
গণমাধ্যম

রয়টার্সের প্রতিবেদন: ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, দেশে ফিরে আসার দুই মাস না যেতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান। তার বাবা-মা একসময় যেমন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তেমনি তিনিও দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্ত স্বভাব নেতার জন্য হবে এক বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দল বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান পান বীরোচিত সংবর্ধনা।

হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে। শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নেতা; যিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন।

তারেক রহমান বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এমনভাবে পুনর্গঠন করতে চান, যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর দেশ অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল না হয়। এটি শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত, যিনি দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত ছিলেন।

তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা প্রস্তাব করেছেন।

কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত ঘটেছে যে, নিজের সময় কিভাবে কেটেছে তা ভাবারও সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কন্যা জাইমা রহমানকে পাশে নিয়ে তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বলেন, আমরা দেশে আসার পর প্রতিটি মিনিট কিভাবে কেটেছে, আমি নিজেও জানি না।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম তারেক রহমানের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। পরে তিনি বস্ত্র ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় যুক্ত হন।

দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন; যিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজের পরিবারের ওপর হওয়া নিপীড়নের ঊর্ধ্বে উঠে সামনে তাকাতে চান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধে কী আসে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে কোনো ভালো কিছু হয় না। এই মুহূর্তে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি সব অভিযোগ বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলায় তিনি খালাস পান।

লন্ডনে বসে তিনি দেখেছেন, কিভাবে একের পর এক নির্বাচনে তার দল কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাগারে গেছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।

দেশে ফিরে তিনি সংযত ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সংযম ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন—যা নতুন সূচনার আশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে। 

দলের ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা; সবই তিনি সরাসরি তদারকি করছেন, যা একসময় তিনি বিদেশ থেকে করতেন। তারেক রহমানের ভাষায়— গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখাই হবে তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি এবং দেশ পুনর্গঠন করতে পারি। গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাই আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, আমরা আমাদের দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।

এই সম্পর্কিত আরো

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

শান্তিগঞ্জে এম এ মান্নান প্রাথমিক মেধা বৃত্তির পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব: এমপি কয়ছর আহমদ

পেনাং-এ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা’ অনুষ্ঠিত

কোম্পানীগঞ্জে চোর সিন্ডিকেটের হানা; মাঠে নেমেছে বাজার কমিটি

সাতটার পরই অন্ধকার সিলেট: লোডশেডিং ও বন্ধ দোকানে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি

মেধাভিত্তিক জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কে ধান ও খড় শুকানো: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

কুলাউড়ায় কেটিএফ মেধাবৃত্তি পেল ৭০ শিক্ষার্থী