দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৈধ দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে প্রায় তিন যুগ পর আগামীকাল জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আজ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। বিকাল ৪টায় সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। বাছাইয়ের পর আমরা জানিয়েছিলাম, দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেছে। তাদের কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। সে অনুযায়ী ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেনÑ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অলি আহমেদ বীর বিক্রম।
তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল
৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা রঙের ওপর কালো প্রিন্ট। ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবেÑ একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট অংশ। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোট প্রদানকারী সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। এর নিচে থাকা নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। মূল ব্যালট অংশে বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নাম ছাপা থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাদের জন্য ৩৪৯টি ব্যালট প্রস্তুত থাকবে। তবে ভুলের আশঙ্কায় কিছু অতিরিক্ত ব্যালটও রাখা হতে পারে।
ইসি সচিব বলেন, প্রাপ্ত বৈধ ভোটের মধ্যে যিনি বেশি ভোট পাবেন, তাকে নির্বাচনী কর্তা প্রাথমিকভাবে সংসদ কক্ষে বসেই বিজয়ী ঘোষণা করবেন। এরপর নির্বাচন কমিশনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ফলাফল পাওয়ার পর গেজেট প্রকাশে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেও জানান তিনি।
ব্যালট পেপার আগেই সংসদে পাঠানো হবে না জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ভোটের দিন নির্বাচন সহায়ক কর্মকর্তারা নিজেরাই ব্যালট পেপার হাতে করে সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হচ্ছেÑ এ তথ্য দিয়ে ইসি সচিব বলেন, এবার ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন এবং অন্যান্য।
এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি আগামীকাল ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ১৩ অগাস্ট সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন। রিট আবেদনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ৬ অগাস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে রুল চাওয়া হয়েছিল।