জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদের ব্যাপক দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি আর অনিয়মের কারণে শাল্লা কার্যালয় জিম্মি হয়ে পড়েছে। এবার উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা United Nations Development Programme (ইউএনডিপি)–এর আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও একাধিক টিউবওয়েল থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে সরাসরি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি অফিসের ম্যাকানিক বিদুৎ কুমার দাসের মাধ্যমেও বিভিন্ন গ্রামের ইউএনডিপি তালিকাভুক্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। এসব অভিযোগের সমর্থনে একাধিক অডিও রেকর্ড ও প্রমাণাদি দৈনিক সবুজ সিলেট প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, হবিবপুর ইউনিয়নের মৌরাপুর গ্রামের জন্টু চন্দ্র দাসের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং সাউদেরশ্রী গ্রামের রতন চৌধুরীর কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌরাপুর গ্রামের তারাচাঁদ দাস টিউবওয়েল পাওয়ার পর আরও ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের সহদেবপাশা গ্রামের আবুল হোসেনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, একই গ্রামের এরশাদ মিয়া এবং ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের রুপসা গ্রামের প্রণতি রানী মহানায়কসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কিছুদিন আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর টিউবওয়েল বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকৌশলী এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলছেন—তুমি প্রতিটি টিউবওয়েল থেকে ত্রিশ হাজার টাকা নিবা। পাঁচ হাজার তোমার, বাকি সব আমার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা দেদারসে টাকা নিচ্ছে, এটা সত্য। আমি দুইটা টিউবওয়েল থেকে টাকা নিয়েছি, যেটা কেউ খোঁজে পাবে না। টাকার মাধ্যমেই হোক বা যেভাবেই হোক, ইউএনডিপির দু-চারটা টিউবওয়েল দেওয়ার ক্ষমতা আমার রয়েছে।
অন্যদিকে, ম্যাকানিক বিদুৎ কুমার দাস গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “আমি সামান্য টাকা নিয়েছি। আমার অল্প টাকা হলেই চলে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেকুজ্জামান জানান, ইউএনডিপির টিউবওয়েল বিতরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এ খাতে কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।