স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও জামালগঞ্জের সাচনা বাজার ইউনিয়নের ভরতপুর কুকড়াপশী পিয়াইন নদীতে খেয়াঘাটে নির্মিত হয়নি সেতু। ফলে বছরের পর বছর পিয়াইন নদীর উপর বাশেঁর নড়বড়ে সাকু দিয়ে কিংবা খেয়া নৌকার ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৭ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
জানা যায়, বর্ষায় প্রায় ৬ মাস এই নদীর ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে হয় নৌকায়। আর শুকনো মৌসুমে ৬ মাস নদীর উপর অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাকু তৈরি করে তার উপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় শিশু, বৃদ্ধ, রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের। এখানকার গ্রামগুলোর মানুষের জন্য নদী পারাপারে স্থায়ী কোন সেতু না থাকায় যেন অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। বাঁশের সাকুটি সরু, নড়বড়ে এবং পুরানো। সামান্য ভারসম্য হারালেই নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্কা রয়েছে।
বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নদী পারাপারে স্থায়ী কোন সেতু না থাকায় হতাশ এলাকাবাসী। বিশেষ করে বৃষ্টি, কুয়াশা, অন্ধকারে এই সাকু দিয়ে আসা-যাওয়া ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসী। নদীর উত্তরপাড়ে ভরপুর, চানপুর, খলা চানপুর, হরিহরপুর সহ ৭ গ্রামের মানুষ বসবাস করছে। আর দক্ষিণপাড়ে কুকড়াপশী, সেরমস্তপুর, নজাতপুর সহ রয়েছে কয়েকটি গ্রাম।
এই পাড়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজার, সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ব্যাংক, বিশেষ করে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আবার নদীর উত্তরপাড়ে রয়েছে, ৭টি গ্রাম সহ দক্ষিণপাড়ের গ্রামগুলোর কয়েকশত হেক্টর কৃষি জমি। এইসব স্থানে আসা-যাওয়া করে হাজারো মানুষ।
বর্ষাকালে নৌকা না চললে অনেক সময় রোগীকে নদীর পাশেই অপেক্ষা করতে হয়। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বিপদজনক সাকুঁ পাড় হয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজে আসা-যাওয়া করে। এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম, কৃষি জমির ফসল আনা নেওয়া কিংবা জরুরি সেবাগুলো ব্যহত হচ্ছে এই সেতুর অভাবে।
কুকড়াপশী গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি মোঃ কালা মিয়া বলেন, বর্ষায় নদী ভরা থাকলে জীবনের নৌকায় পার হতে হয়। খেয়া নৌকার জন্য কখনো কখনো আধা ঘণ্টা কিংবা ১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। আর শীতকালে যখন সাকু বানানো হয়, সেটা এতই দুর্বল থাকে যে, ভয়ে ভয়ে সাকু পার হতে হয়। অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মা কিংবা শিশুদের নিয়ে পার হওয়া খুবই ঝুকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভরতপুর গ্রামের শিক্ষার্থী শ্রীমতি রানী রায় বলেন, পিয়াইন নদীর উপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন কষ্ট করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে আমাদের। ইউনিয়ন পরিষদ, কলেজ, ভূমি অফিস কিংবা হাট-বাজারে যেতে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট হয়। অনেক সময় খেয়া পারাপারে দেরি হয়ে গেলে ক্লাসে দেরিতে যেতে হয়। আমাদের দাবি অবিলম্বে পিয়াইন নদীর উপর ১ টিকে পাকা সেতু নির্মাণ করা হউক।
এলাকাবাসীর দাবি স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি বাঁশের সাকুই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়, তাহলে তা শুধু হতাশাজনক নয়, চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। তারা দ্রুত পিয়াইন নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করে স্বাভাবিক যাতায়াত ও উন্নয়নের পথ সুগম করার দাবি জানান।
সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুক মিয়া বলেন, পিয়াইন নদীর উপর একটি ব্রিজ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও কৃষকের ফসল আনতে ঝুঁকি নিয়ে এই সাকু দিয়ে পারাপার হতে হয়। যার কারণে আমি মাননীয় এমপি সাহেবকে এই ব্রিজটির ব্যাপারে অবগত করেছি।
তিনি আসস্ত করেছেন, এলাকার মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে ব্রিজটি করার ব্যবস্থা নিবেন। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আয়াত উল্লাহ বেহেশতী বলেন, আমি নতুন এসেছি। যতটুকু জেনেছি পিয়াইন নদীতে একটি ১০০ মিটার ব্রিজ বরাদ্দ হয়েছিল। জায়গা সংকটের কারণে ব্রিজটি করা সম্ভব হয়নি। এই অর্থ বছরেও এই নদীতে একটি ১০০ মিটার ব্রিজের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাশ হয়ে আসলে দ্রুতই ব্রীজটি করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।