সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক জনপদে অবস্থিত সুন্দাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৮৫ বছরের পুরোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে শিক্ষা বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও এখনো মৌলিক অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত।
উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সুনাম অর্জন করেছে। ২০১৩ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিও পায় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি শ্রেণিকক্ষ সংকট, সীমানা প্রাচীর ও প্রধান গেট না থাকার কারণে চরম সমস্যার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া ব্যস্ত খাগাইল–তোয়াকুল সড়কের কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ রয়েছে, ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও সীমানা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবকাঠামো উন্নয়নের আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কয়েস আহমদ বলেন, এই বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। দ্রুত সীমানা প্রাচীর ও শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি জরুরি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী হোসেন বলেন, গাছ রোপণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে গেছে। বাউন্ডারি না থাকায় গবাদিপশুর কারণে পুরো পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি জানানো হলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রায় বলেন, বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপত্তা, কারণ সীমানা প্রাচীর ও গেট না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে শত বছরের পুরোনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।