অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি) পরিচালিত সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম ‘স্মার্টট্রাভেলার’ বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের সর্বশেষ হালনাগাদেও ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বহাল রেখেছে।
গত ৯ এপ্রিল হালনাগাদ করা এই ভ্রমণ সতর্কতা ১০ এপ্রিল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। এতে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে “ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করুন”—এ ধরনের সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
সতর্কতায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান নাগরিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য সহিংস কার্যক্রমের কারণে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের ভ্রমণের আগে সতর্কভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। বড় ধরনের জনসমাবেশ বা বিক্ষোভ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সহিংস রূপ নিতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ, সমাবেশ ও জনসভা এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল ও কক্সবাজার জেলার জন্য আলাদা সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল এবং যেকোনো সময় আরও অবনতি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে এ ধরনের সতর্কতা নতুন নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অর্থাৎ “ভ্রমণ নিষিদ্ধ” সতর্কতায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির কারণে তা কিছুটা শিথিল করে “ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করুন” পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।
এদিকে সতর্কতা বহাল থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মিল্টন ডিকের নেতৃত্বে একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করলেও, নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করার সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ্য, স্মার্টট্রাভেলার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার বিশ্বের ১৭৮টি দেশের ভ্রমণ পরামর্শ প্রকাশ করে, যা দেশটির নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।