আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন হত্যা চেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের সমর্থনে বক্তব্য রেখেছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদের সরকার দলীয় হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছ, বর্তমান সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও লুৎফুজ্জামান বাবর। তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে হয়েছিলেন তারা। তারা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানানোর পাশাপাশি মামলাটি মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদীত বলে অভিহিত করেছেন।
তাদের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, এই মামলার রায় প্রদানের আরিফুল হক, লুৎফুজ্জামান বাবর, জিকে গৌছসহ আসামিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
আদালতে সংসদের হুইপ জিকে গউছ বলেন, এই মামলায় দুবছরের বেশি সময় কারা নির্যাতিত হয়েছি। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে প্রতিহিংসার শিকার আমরা।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসামি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে।
এরআগে দুপুর ১২টায় আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গৌছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর সহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজির হন। এসময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। এসময় আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
পরে শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।