মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

সিলেট দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর: পুলিশ কমিশনার

সিলেট দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর উল্লেখ করে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেছেন, নিরাত্তা সূচকে সিলেট মহানগর দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রাউড সোর্স অনলাইন ডাটাবেজ প্লাটফর্ম NUMBEO.com এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির ক্রাইম ইনডেক্স এবং সেফটি ইনডেক্স অনুযায়ী সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা জনগণের বসবাসের জন্য অত্যন্ত ভালো পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটি বলেন।

আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, NUMBEO.com এর আজকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের আটটি মহানগরের তুলনায় সিলেটের ক্রাইম ইনডেক্স সবচেয়ে কম (৩২.৭০)। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ৪০ এর নিচে কোনো ক্রাইম ইনডেক্স যদি কোন শহরে থাকে সেটাকে নিরাপদ শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একমাত্র সিলেট ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন মহানগরের ক্রাইম ইনডেক্স ৪০ এর নিচে নয়।

এছাড়া সেইফটি ইনডেক্সেও সিলেট দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় এগিয়ে (৬৭.২০), যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ৬০ এর উপরে হওয়ায় নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি বলেন, ডাটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সূচকে সিলেট মহানগর সবার উপরে। তার নিকটতম শহরের (রংপুর) সেইফটি ইনডেক্স ৫৪.৪১।

তিনি বলেন, গত ৭ মাসে পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদানের সময় সিলেটের সেইফটি ইনডেক্স ছিল ৫২ যা পর্যায়ক্রমে ৬৭ তে পৌঁছে। এখানে একটা পজিটিভ ট্রেন্ড লক্ষণীয়। এই সূচক প্রমাণ করে, সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে ভালো। এমনকি বিশ্বের অনেকগুলো শহরের চেয়ে ভালো। লন্ডনের সেফটি ইনডেক্স সিলেটের সেফটি ইনডেক্সের চেয়ে কম। আমি এটাকে লন্ডন শহরের মত দেখতে চেয়েছিলাম। এখন ইনডেক্স কিন্তু এই কথাগুলো বলছ।৷ সামনেও বলবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনাকে ছিনতাই হিসেবে মিডিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তালতলা এবং তেমুখি ঘটনা দুটিকে যাচাই করে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

'একদিনে তিন ছিনতাই, আতঙ্কে নগরবাসী', 'সিলেট এখন ছিনতাইয়ের নগরী'- এ ধরনের কিছু সংবাদ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসএমপি ইতোমধ্যে ফেসবুক পেইজে একটা বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিভিন্ন পত্রিকায় যেভাবে লেখা হয়েছে বাস্তবে সেটার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় আমরা আছি। এটা পরিসংখ্যান দিয়ে আপনাদেরকে দেখানো হয়েছে। এখন একটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার পরে যদি এরকম কথা আসে যে সিলেট এখন ছিনতাইয়ের নগরীতে পরিণত হয়েছে- এটা আমাদেরকে বিব্রত করে। এবং আমাদের মোরালটাকে নষ্ট করে। এই বিষয়টাও আমার মনে হয় আপনাদেরকে একটু খেয়াল করতে হবে।

৫ আগস্টের পরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে পুলিশ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, পুলিশ বাহিনীকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আমরা যে নিরলস পরিশ্রম করে গেছি- আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা ও পজেটিভলি নিউজ করা, আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে- জনস্বার্থে পুলিশকে উৎসাহিত করা এটা আমরা প্রত্যাশা করি- যোগ করেন পুলিশ কমিশনার।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে ভিন্নতা হতে পারে। চিন্তা এবং পেশাগত কারণে একই জিনিসকে বোঝাপড়ার ভিন্নতা হতে পারে- কিন্তু মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় যেভাবে নিউজ প্রকাশ হয়েছি- আমরা একটু বিব্রত হয়েছি৷ আপনাদের যেকোনো মতামত আমরা গ্রহণ করব৷ জনগণের ইচ্ছায় আমি কাজ করব৷ জনগণের মধ্যে আপনারা একটা মেজর স্টেকহোল্ডার৷ ভুলবোঝাবুঝি যেন আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি না করে, সে বিষয়ে আমি আপনাদের সাথে দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

তিনি বলেন, নিউজ প্রকাশিত হবার পরে মানুষ মতামতে বলেছেন পরিকল্পিত ভাবে একটা নিউজকে ভিন্নভাবে প্রকাশ করার অন্য-কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না৷ আমি এ বিষয়টা জানি না, এটা জনগণের মতামত। জনগণের পক্ষ থেকে আসছে৷ আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা আপনাদের সাথে আছি। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করি, করব। কিন্তু আমাদের এই পজিটিভ কাজগুলোকে আপনারা হাইলাইট করবেন।

শহরকে ফুটপাত ও যানজট মুক্ত করণে আপনাদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে অগ্রণী। প্রতিনিয়ত আপনারা এগুলোকে হাইলাইট করে নিউজ করেছেন। জনমত তৈরি হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা অন্তত এটা নিয়ে গর্ব করতে পারি যে, বাংলাদেশের কোন জায়গায় অবৈধ গাড়ি রাস্তা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি যেটা আমরা করেছি। বাংলাদেশের কোন জায়গা থেকে ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। এই কার্যক্রমকে টেকসই করার জন্য আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান আছে- জানান তিনি।

২৬৩ জন ছিনতাইকারীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আমরা পর্যায়ক্রমে ধরব। তালিকাভুক্তদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষায়িত কয়েকটা দল গঠন করা হয়েছে। তাদের কাজই হচ্ছে ছিনতাইকারীকে ধরা। আগামী দুই-একমাসের মধ্যে দের অপতৎপরতা বন্ধ করতে সমর্থ হব।

পুলিশ কমিশনার বলেন, লো এন্ড অর্ডারের ক্ষেত্রে অপরাধকে শূন্যের মাত্রায় নামিয়ে আনা একটা ইউটোপিয়ান চিন্তাভাবনা, এটা আসলেই করা সম্ভব না। অপরাধ একদমই থাকবে না, এটা বাস্তবিক ও আক্ষরিক অর্থে সম্ভব না। কিন্তু এটাকে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে যদি আনা যায়, সহ্য সীমার মাত্রা যদি আনা যায় তখন সেটাকে নিরাপদ শহর হিসেবে অনুভব করতে পারি। যদি এখানকার নিরাপত্তাটাকে ভাল রাখা যায়, পর্যটক আসতে আরো উৎসাহিত হবেন।

সাংবাদিকদের সাথে পুলিশের পেশাগত বন্ধুত্ব অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে ভাল। এখানে পুলিশ, পুলিশের কার্যক্রম, অনিয়ম সম্পর্কে যখন যা রিপোর্ট করেছেন আমরা সাথে সাথে অ্যাড্রেস করেছি। আপনারা সত্যিকার চতুর্থ স্তম্ভ এটা প্রমাণ করেছেন।

আমরা এটা বলব, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাবে আমরা বিষয়টা উপস্থাপন করব। সেক্ষেত্রে যদি কারো দ্বারা ঘটনাকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে- তখন আমরা আশা করবো আপনারা সেই সংবাদকর্মীকে বিষয়টা অবহিত করবেন। এতে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কোন ঘটনা কী হয়েছিলো তা ফেসবুকে দেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত ও আইনসঙ্গত, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আমারও প্রশ্ন যাচাই না করে ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ করা এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত? আমরা এটা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, একটা নিউজ যখন আপনি করবেন আগে যাচাই করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিতে হবে, এরপর পুলিশের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। পুলিশের বক্তব্য না নিয়ে আপনি সরাসরি ফটো কার্ড আগেই তো মিডিয়া ট্রায়াল করে দিলেন যে এটা ছিনতাই৷

সমাজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের কাজের প্রকৃত সহযোগী সাংবাদিকবৃন্দ। পেশাগত নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাকে সবসময় স্বাগত জানায় পুলিশ- জানান তিনি।

আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯ জন ডাকাত, ছিনতাইকারী ৪৮ জন, চোর ৯৫ গ্রেপ্তার করা হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০ জন ডাকাত, ছিনতাইকারী ১০৩ জন, ১০৪ জন চোর গ্রেপ্তার করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ছিনতাইকারীেদের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স তুলে ধরে।

এছাড়াও বিভিন্ন পরোয়ানায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে মোট গ্রেপ্তার ২৬৬৭ জন এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩০৪৩ জন৷ গড়ে প্রতি মাসে সহস্র অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গেল রমজানেই শুধু ১১২৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো