শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঝুলে আছে যাদুকাটা নদীতে সেতুর কাজ

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও ঢিলেমির কারণেই দীর্ঘ প্রায় আট বছরেও যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি ও বিন্নাকূলি বাজারের মধ্যবর্তী যাদুকাটা নদীতে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩২ ফুট প্রস্থের ‘শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভূ মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

কাজ পায় তমা কনন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেতু নির্মাণ কাজের সময়সীমা ছিল ৩০ মাস। সে অনুয়ায়ী ২০২১ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেতুতে ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ১৮টি এবং ১৫টি স্ল্যাবের মধ্যে ৫টির নির্মাণকাজ এখনো অসমাপ্ত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও ঢিলেমির কারণেই দীর্ঘ প্রায় আট বছরেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি, এমনকি বর্তমানে সকল কাযক্রম বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভূ মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে সম্প্রতি সুনামগঞ্জে অবস্থান কমসূচী পালিত হয়েছে। গত ১ এপ্রিল সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচীতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের পুরান বারুংকা গ্রামের মো. সুহেল আলম।

তিনি জানান, যাদুকাটা নদীর উপর নির্মিত এই সেতু হবে জেলার সবেচেয় দীর্ঘতম সেতু। সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে জেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা হয়ে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত সহজ হবে। সীমান্ত এলাকা হয়ে সহজে যাওয়া-আসা করা যাবে মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলায়। একই সঙ্গে নেত্রকোনা হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের পথ খুলবে। সেতু এলাকার পাশেই রয়েছে একটি সীমান্তহাট। নদীর পশ্চিম তীরে দেশের সবচেয়ে বড় শিমুলবাগান ও নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বারিক টিলা। এর পাশে টাঙ্গুয়ার হাওর, লাকমাছড়া, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী লেক), টেকেরঘাট। এসব স্থানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় থাকা বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কস্টেশনেও সুনামগঞ্জ শহর থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ওই এলাকায় যাতাযাত করেন।

মু. সুহেল আলম আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবতন সাধিত হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জনগণের পক্ষে আমার এই অবস্থান কমসূচী। পরবতীতে এলাকার সবস্তরের জনগণকে নিয়ে সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এই সম্পর্কিত আরো