শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

কোম্পানীগঞ্জে জব্দ বালু থেকে লুটের অভিযোগ দুলাল-কাজল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে!

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে লিজ বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘনফুট বালু জব্দের পর তা পুনরায় লুট হয়ে যাওয়ার অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় কালাইরাগ গ্রামের দুলাল আহমদ ও ইউপি সদস্য কাজল সিংহের নাম ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, গত ১ এপ্রিল দুপুরে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশসহ একটি টিম দয়ার বাজার ও কালীবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদকৃত বালু জব্দ করে। জব্দকৃত বালুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। পরে বালুর স্তূপগুলোতে লাল নিশানা দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, একইদিন বিকেলেই একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের জব্দ করা বালু থেকে প্রায় ২০০ ট্রাক বালু সরিয়ে নেয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, জব্দকৃত বালুর একটি বড় অংশ কালাইরাগ গ্রামের দুলাল আহমদ ও ইউপি সদস্য কাজল সিংহের ইন্ধনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এ ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন ও মজুদের সঙ্গে জড়িত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দুলাল আহমদ বলেন, “আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই, লুটের বিষয়েও কিছু জানি না।”
অন্যদিকে ইউপি সদস্য কাজল সিংহ বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দ বালু রক্ষায় কাজ করেছি। লুটের অভিযোগ সঠিক নয়, বরং আমি তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলাই নদীর উজান ও কালাইরাগ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালুখেকো সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের অভিযানে সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কিছুদিন পর আবারও শুরু হয় এই কার্যক্রম।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “জব্দ বালুর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অধীন। তবে বালু চুরি বা লুটের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাইলে কিংবা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বললে আমরা তা গ্রহণ করবো।”


উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা পলাশ তালুকদার বলেন, “বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট বালুর তালিকা করা হয়েছে। জব্দকৃত বালু দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এছাড়া এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

 

এই সম্পর্কিত আরো