সিলেট বিভাগে সংক্রামক রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করেছে। শিশুদের পাশাপাশি তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২০ জন। একই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬ জন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে দুজন এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নতুন শনাক্ত চারজনের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলায় তিনজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একজন রয়েছেন।
আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চালু হওয়া এ কেন্দ্রে বর্তমানে ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৪ জন শিশু এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের সবার নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিলেটে এখনো হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো ল্যাব সুবিধা নেই। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য রাজধানী ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা পাঠানো হয় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে, যেখানে হামের পরীক্ষা করা হয়।
এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হামের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয় এবং চূড়ান্ত ফলাফল পেতে অন্তত সাত দিন সময় লাগে। এ সময় রোগীদের আইসোলেশনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন জানান, জেলায় এখনো ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। শুধু ছাতক উপজেলায় একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।